• বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সংসদে নারীদের ১০০ আসন বা সরাসরি নির্বাচন হলে  নারীর ক্ষমতায়ন বা প্রকৃত নারীমুক্তি হবে কি

সংসদে নারীদের ১০০ আসন বা সরাসরি নির্বাচন হলে  নারীর ক্ষমতায়ন বা প্রকৃত নারীমুক্তি হবে কি

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

৫ আগস্ট ’২৪-এ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী হাসিনার পতনের পর ক্ষমতাসীন ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন দেশ গঠনের ঘোষণা দেয়। তারা তথাকথিত নতুন বন্দোবস্ত তথা সংস্কারের নামে বেশ কিছু সংস্কার কমিশন গঠন করে। এই সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে একটি নারী কমিশনও গঠন করা হয়েছিল। কমিশন গঠিত হয়েছিল আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণি, সুশীল সমাজের কর্তাব্যক্তি এবং এনজিও কর্মকর্তাদের দ্বারা। নারী কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট জমা দেয়া সংস্কার প্রস্তাবে নারীদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত ৫০ আসনের ব্যবস্থা বদল করে নারীদের আসন অনেক বাড়ানোর প্রস্তাব করে। বুর্জোয়া নারীবাদীরা, প্রগাতিশীল নারী সংগঠন এবং কোনো কোনো এনজিও সংস্থার নারীরা এবং সুশীলরাও ১০০ আসনের দাবি জানায়। কেউ কেউ নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণেরও দাবি জানায়। এখন জুলাই সনদেও নারীদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ করার কথা বলা হয়েছে।  বাংলাদেশে স্বৈরশাসক এরশাদ প্রথম সংসদে নারীদের জন্য ৩৩টি সংরক্ষিত আসন করে। তৎকালীন সময়ে সংসদের ৩৩ সেট অলঙ্কার বলেও এ নিয়ে হাসি-তামাশা করা হতো। এরপর থেকে প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণির দলগুলো পালা বদল করে ক্ষমতায় আসলেও তারা নারীদের জন্য স্বৈরশাসক এরশাদের ৩৩টি সংরক্ষিত আসনই বহাল রাখে। তারা দলীয় আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসনের সিট ভাগাভাগি করে দলীয় নারীদের সাংসদ হিসেবে নিয়োগ দেয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ৩৩টি  সংরক্ষিত আসন বাড়িয়ে ৫০টি করে।  সংরক্ষিত আসন কি নারীদের জন্য সম্মানজনক? নিশ্চয়ই নয়। সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদদের প্রতিনিধিত্বের জন্য কোনো এলাকা নেই। সেজন্য সাংসদ হিসেবে তাদের কোনো কাজ নেই। সেজে-গুজে সংসদে বসে অলংকার হিসেবে শোভা বর্ধন করাই তাদের কাজ। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মাসে মাসে বেতন-ভাতা তোলা এবং গাড়ি-বাড়ির সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার হালুয়া-রুটির ভাগ পাওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। সংরক্ষিত আসনের নারীরা বা নির্বাচিত নারীরাও বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার শাসকশ্রেণির অংশ ও প্রতিনিধি। নারীমুক্তির প্রশ্নে তাদের অবস্থান হচ্ছে বুর্জোয়া সংস্কারমূলকও নয়। নারীর শত্রু সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণ-ব্যবস্থা পরিবর্তনে তাদের কোনো কর্মসূচি নেই। বরং তারা বিদ্যমান সকল ধরনের শোষণমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য কখনো কিছু সংস্কার করে। যেমন ৫০ আসনের পরিবর্তে ১০০’র দাবি। সংরক্ষিত আসনের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ– ইত্যাদি। যদিও সংরক্ষিত নারী আসনের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণের দাবি তুলনামূলক আগ্রসর দাবি। যোগ্যতাবলে সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দাবি। কিন্তু তাতে কি? হাসিনা-খালেদা-রওশন, মতিয়া চৌধুরি, শিরিন শারমিন চৌধুরিরা সরাসরি নির্বাচন করেই প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, স্পিকার হয়েছিল। তাতে কি নারীরা খুন-ধর্ষণ সহ যৌতুক প্রথা এবং ঘরে-বাইরে পুরুষতান্ত্রিক নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়েছে? এতে বুর্জোয়া নারীদের ক্ষমতায়ন হলেও শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক নিপীড়িত নারীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিগত ৫৪ বছরে তা প্রমাণিত হয়েছে। এবারও সংরক্ষিত আসনে বুর্জোয়া দলগুলো তাদের দলীয় ভোটের অনুপাতে নারী আসনগুলো ভাগাভাগি করে দলীয় নারীদের ক্ষমতার ভাগ দেবে। তাতে শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী শোষিত নারীদের কী লাভ হবে? কিছুই না। সুতরাং বুর্জোয়া শাসকশ্রেণির সংসদে ১০০/৩০০ নারী আসন হলেও  শ্রমিক, কৃষক, আদিবাসীসহ নিপীড়িত নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা হবে না, মুক্তিও আসবে না, আসতে পারে না।

 নারীমুক্তির একমাত্র পথ মাওবাদী আদর্শে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষক-আদিবাসী এবং মধ্যবিত্ত সহ নিপীড়িত  ব্যাপক নারীদের ঐকবদ্ধ ভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের বিপ্লবী সংগঠনে সংগঠিত হওয়া। নারীমুক্তির সকল শত্রুদের শেকড় উপড়ে ফেলা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

সংসদে নারীদের ১০০ আসন বা সরাসরি নির্বাচন হলে  নারীর ক্ষমতায়ন বা প্রকৃত নারীমুক্তি হবে কি

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

৫ আগস্ট ’২৪-এ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী হাসিনার পতনের পর ক্ষমতাসীন ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন দেশ গঠনের ঘোষণা দেয়। তারা তথাকথিত নতুন বন্দোবস্ত তথা সংস্কারের নামে বেশ কিছু সংস্কার কমিশন গঠন করে। এই সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে একটি নারী কমিশনও গঠন করা হয়েছিল। কমিশন গঠিত হয়েছিল আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণি, সুশীল সমাজের কর্তাব্যক্তি এবং এনজিও কর্মকর্তাদের দ্বারা। নারী কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট জমা দেয়া সংস্কার প্রস্তাবে নারীদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত ৫০ আসনের ব্যবস্থা বদল করে নারীদের আসন অনেক বাড়ানোর প্রস্তাব করে। বুর্জোয়া নারীবাদীরা, প্রগাতিশীল নারী সংগঠন এবং কোনো কোনো এনজিও সংস্থার নারীরা এবং সুশীলরাও ১০০ আসনের দাবি জানায়। কেউ কেউ নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণেরও দাবি জানায়। এখন জুলাই সনদেও নারীদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ করার কথা বলা হয়েছে।  বাংলাদেশে স্বৈরশাসক এরশাদ প্রথম সংসদে নারীদের জন্য ৩৩টি সংরক্ষিত আসন করে। তৎকালীন সময়ে সংসদের ৩৩ সেট অলঙ্কার বলেও এ নিয়ে হাসি-তামাশা করা হতো। এরপর থেকে প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণির দলগুলো পালা বদল করে ক্ষমতায় আসলেও তারা নারীদের জন্য স্বৈরশাসক এরশাদের ৩৩টি সংরক্ষিত আসনই বহাল রাখে। তারা দলীয় আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসনের সিট ভাগাভাগি করে দলীয় নারীদের সাংসদ হিসেবে নিয়োগ দেয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ৩৩টি  সংরক্ষিত আসন বাড়িয়ে ৫০টি করে।  সংরক্ষিত আসন কি নারীদের জন্য সম্মানজনক? নিশ্চয়ই নয়। সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদদের প্রতিনিধিত্বের জন্য কোনো এলাকা নেই। সেজন্য সাংসদ হিসেবে তাদের কোনো কাজ নেই। সেজে-গুজে সংসদে বসে অলংকার হিসেবে শোভা বর্ধন করাই তাদের কাজ। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মাসে মাসে বেতন-ভাতা তোলা এবং গাড়ি-বাড়ির সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার হালুয়া-রুটির ভাগ পাওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। সংরক্ষিত আসনের নারীরা বা নির্বাচিত নারীরাও বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার শাসকশ্রেণির অংশ ও প্রতিনিধি। নারীমুক্তির প্রশ্নে তাদের অবস্থান হচ্ছে বুর্জোয়া সংস্কারমূলকও নয়। নারীর শত্রু সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণ-ব্যবস্থা পরিবর্তনে তাদের কোনো কর্মসূচি নেই। বরং তারা বিদ্যমান সকল ধরনের শোষণমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য কখনো কিছু সংস্কার করে। যেমন ৫০ আসনের পরিবর্তে ১০০’র দাবি। সংরক্ষিত আসনের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ– ইত্যাদি। যদিও সংরক্ষিত নারী আসনের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণের দাবি তুলনামূলক আগ্রসর দাবি। যোগ্যতাবলে সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দাবি। কিন্তু তাতে কি? হাসিনা-খালেদা-রওশন, মতিয়া চৌধুরি, শিরিন শারমিন চৌধুরিরা সরাসরি নির্বাচন করেই প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, স্পিকার হয়েছিল। তাতে কি নারীরা খুন-ধর্ষণ সহ যৌতুক প্রথা এবং ঘরে-বাইরে পুরুষতান্ত্রিক নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়েছে? এতে বুর্জোয়া নারীদের ক্ষমতায়ন হলেও শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক নিপীড়িত নারীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিগত ৫৪ বছরে তা প্রমাণিত হয়েছে। এবারও সংরক্ষিত আসনে বুর্জোয়া দলগুলো তাদের দলীয় ভোটের অনুপাতে নারী আসনগুলো ভাগাভাগি করে দলীয় নারীদের ক্ষমতার ভাগ দেবে। তাতে শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী শোষিত নারীদের কী লাভ হবে? কিছুই না। সুতরাং বুর্জোয়া শাসকশ্রেণির সংসদে ১০০/৩০০ নারী আসন হলেও  শ্রমিক, কৃষক, আদিবাসীসহ নিপীড়িত নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা হবে না, মুক্তিও আসবে না, আসতে পারে না।

 নারীমুক্তির একমাত্র পথ মাওবাদী আদর্শে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষক-আদিবাসী এবং মধ্যবিত্ত সহ নিপীড়িত  ব্যাপক নারীদের ঐকবদ্ধ ভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের বিপ্লবী সংগঠনে সংগঠিত হওয়া। নারীমুক্তির সকল শত্রুদের শেকড় উপড়ে ফেলা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র